মহালয়া’র গল্প

আশ্বিনের এই শারদ প্রাতেঃ, থাকুক সবাই দুধে ভাতে
বেতারে তে হচ্ছে আবাহন
বিরু ভদ্র’র উদ্দাত্ত স্বর, করছে আপন, যে ছিল পর
মিষ্টি ছুটি’র কোলে অবগাহন

পিতৃপক্ষ নিলো বিদায়, দেবীপক্ষ চোখ মেলে চায়
এলো বুঝি নতুন সে এক ভোর
অমাবস্যা’র অন্ধকারে, ঢাকা কত অজানা রে
জানতে চাইলে,করবো নাকো জোর

স্বর্গীয় সব আপনজনে, আকুতি যে দুই নয়নে
অপেক্ষাতে, পিন্ড হবে দান
না হতে চায় কর্ণ কেহ, দানবীর সে, রাখলো দেহ
জীবদ্দশায় ভুলে পিন্ড দান

সেই অপরাধ করলো তাড়া, স্বর্গ দেশে হতচ্ছাড়া
বোর্ডিং আছে, ফুড যে তাহার নাই
অতএব সাবধান, জীবদ্দশায় এই বিধান
পিন্ড দান অবশ্যই হওয়া চাই

পুরানে আছে কথিত, মহিষ রাজা’র ভয়ে ভীত
যখন হলো, সমগ্র মেদিনী
শিব ঠাকুরের ভাৰ্য্যা, পারো, করেন প্রচুর শক্তি জড়ো
রূপ টি ধরেন ভুবন মোহিনী

মহিষ রাজ্যে এলেন তিনি, সিংহ পৃষ্ঠে অবস্থিনি
রূপের ছটায় মহিষ বাবু কাত
পাঠালেন সান্ত্রী সেনা, আনতে ডেকে, সেই ললনা
বিবাহ সম্পন্ন হতে হবে রাত

দূর্গা দেবী স্মিত মুখে, জানান তাদের বড় সুখে
আছেন তিনি স্বামী সন্তান নিয়ে
রেগে আগুন মহিষাসুর, ভয়ে সবাই ছুটলো যে দূর
ধরে বেঁধে আনতে হবে গিয়ে

মহালয়া’র সাঁঝ আঁধারে , দানব সেনা ধরলো ঘিরে
দেবী তবু থাকেন হাসি মুখে
দশটি হাতে দশভুজা, করেন শুরু মারণপূজা
শত্রু নিধন করেন মহা সুখে

এই না শুনে মহিষাসুর, ধরেন জোরে বেতালা সুর
যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি ধেয়ে যান
প্রস্তুত যে দশভুজা, উপহারের অস্ত্রে সাজা
অনায়াসে আক্রমণ ফেরান

তুমুল যুদ্ধ হলো সেথায়, দশটি দিন এর কোর্স তা হেথায়
মহিষাসুর হলেন কুপোকাত
বিজয়িনী দূর্গা মাতা, হলেন বিশ্বজগৎ ত্রাতা
মুছে দিয়ে অরাজক সে রাত

মহালয়ায় হয়ে শুরু, দশমী তে উড়ু উড়ু
মা জননী সারেন যে সব কাজ
সন্তানদের কাঁদিয়ে দিয়ে, বিসর্জনের বাদ্যি দিয়ে
কৈলাসেতে যাবেন চলে আজ

মহালয়া’র গল্প সারা, কোমর বেঁধে নাম রে তোরা
হতে হবে চক্র অবতার
পুজো’র সংখ্যা কম কিছু নয়, নানা রকম থিম এ যে হয়
লুটে নে ওই আনন্দভাণ্ডার

Leave a Reply